২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন মেয়াদের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে ১০ হাজার ৯৭৯ কোটি ১ লাখ ৯ হাজার টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
পাশাপাশি রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে ৩৯৯ কোটি ৫০ লাখ ২৭ হাজার ৮৪০ টাকায় ৭৫ হাজার টন সার এবং সিঙ্গাপুর থেকে ২১৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪৫ টাকায় ৫০ হাজার টন নন-বাসমতী সেদ্ধ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সচিবালয়ে গতকাল অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ উত্থাপিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র (কোটেশন) পদ্ধতিতে ১০ হাজার ৯৭৯ কোটি ১ লাখ ৯ হাজার টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে কমিটি। পরিকল্পিত এ আমদানি বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে দশম লটের ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৯ কোটি ৭৫ লাখ ১৩ হাজার ৯২০ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাশিয়ার জেএসসি বিদেশী অর্থনৈতিক করপোরেশন (প্রোডিন্টর্গ) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় সপ্তম লটের ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১৯৯ কোটি ৭৫ লাখ ১৩ হাজার ৯২০ টাকা।
অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্যাকেজ ৬-এর আওতায় ৫০ হাজার টন নন-বাসমতী সেদ্ধ চাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। সিঙ্গাপুরের মেসার্স এস এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এ চাল কিনতে ব্যয় হবে ২১৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪৫ টাকা।
এর আগে ১৮ নভেম্বর একই কমিটির বৈঠকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতী সেদ্ধ চাল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়। মেসার্স আদিত্য বিড়লা গ্লোবাল ট্রেডিং (সিঙ্গাপুর) প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এ চাল কিনতে ব্যয় হবে ২১৬ কোটি ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬০ টাকা।
এরও আগে ২২ অক্টোবর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ও জিটুজি ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিয়ানমার থেকে এক লাখ টন চাল কেনার প্রস্তাবে অনুমতি দেয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ৪৪৬ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৫৭০ টাকা।